প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২ প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২6 প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৩ প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৬
Transparent Logo
<
Scroll down

boikatha

বইকথা
দশম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা

বই নিয়ে আমাদের আগ্রহ ও আবেগ সবার জানা। বই কেনা ও পড়া নিয়ে যে কৌতূহল মুদ্রিত বই বাজারে আসার পর থেকে শুরু হয়েছিল তার তুলনায় বই ছাপার ইতিহাস বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা অনেক কম হয়েছে। আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা সেই ইতিহাসের কিয়দংশ তুলে ধরার। ...

কী আছে ভিতরে

বইপড়া ও বই-কেনাকে ঘিরে বাঙালির উৎসাহ ও উদ্দীপনা সবারই জানা। তার প্রাবল্য এতই বেশি যে তাদের বই-কেনা অচিরেই রূপ নেয় উৎসবের—যার উজ্জ্বল উদাহরণ বইমেলা। সে তুলনায় বাঙালির বই ছাপা, বাঁধানো, ছাপার প্রযুক্তির বদল, বই-ব্যাবসা ইত্যাদি বহু কিছুই রয়ে গেছে অজানা। সেসব খুঁটিনাটি নিয়ে নিরন্তর তত্ত্বতালাশ করাটাই আমাদের লক্ষ্য। কীভাবে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার আগে বই বানানো হত, কিংবা বাইবেলের মতো বই কীভাবে অনূদিত হয়েছে নানা ভাষায়—এমনকি বাংলাতেও। জানতে ইচ্ছে করে, বই লেখার পর ছাপার পরপর ধাপগুলো কী—কেমন করে কাগজ অনুযায়ী তৈরি হয় নানা সাইজের বই বা বদল হয় ভাঁজাইয়ের পদ্ধতি। কেমন হবে সে বই ছাপার হরফ। বই শুধুই শব্দের সজ্জা নয়, তার সঙ্গে ছাপা হয়েছে মানানসই ছবি। কারণ, বাজারজাত বইয়ের বিপণনে সারবস্তু যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি জরুরি তার মলাট-অলংকরণও। যুগের সঙ্গে পালটেছে সেসব ছাপার কৌশল। কখনো কাঠখোদাই কখনো-বা লিথো অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে ছাপা হয়েছে সেগুলি। বইছাপার ইতিহাস জানতে তা জানাও জরুরি। ছাপার ইতিহাসের খুঁটিনাটি জানতে সন্ধান করতে হবে সরাসরি সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংগ্রহশালায়, সেখানে স্মৃতির ধুলোর তলায় চাপা পড়ে আছে গ্রন্থ-ইতিহাসের বহু কিছু। শিল্পী মুকুল দে-র ব্যবহৃত সামগ্রীর সংগ্রহশালা ‘চিত্রলেখা’ তেমনই একটি। এছাড়াও গ্রন্থপ্রেমীদের পড়ার তাগিদে নানাজনের সান্নিধ্যে আসার স্মৃতি সরবরাহ করে বইচর্চার বহু তথ্য। পাঁজির সঙ্গে বাঙালির যোগ বহুদিনের। বছর শুরুর দিন থেকে কৃত্যের সঠিক সময়, বার, তিথি, নক্ষত্র জানান দেওয়া পাঁজির পাতায় ছাপা হত অগণিত বিজ্ঞাপন। সে বিজ্ঞাপনের মাঝে থাকত ছাপার কাজে লাগে এমন বহু জিনিসের খবরও। তার মধ্যে অন্যতম ছিল পকেট প্রেস। আজ সে পকেট প্রেস বিলুপ্ত। তেমনি আগের মতো আর দেখতে পাওয়া যায় না গেরস্ত অমনিবাস টাইপের শত দরকারি বস্তুর সমাহারে গ্রন্থিত কোনো মুশকিল আসান কেতাব—ঠিক যেমনটি ছিল বসুমতী প্রকাশনের হাজার জিনিষ। সত্যিই পাতা উলটালেই বোঝা যায় কী দারুণ কাজের জিনিস ছিল সে বই।
... বই দূরত্ব-সীমানা সব মিশিয়ে দিয়েছে। দেশি-বিদেশি সংস্কৃতির মিশেল ঘটেছে বঙ্গমুদ্রণচর্চায়—তৈরি হয়েছে গ্রাফিক নভেলের মতো নতুন ধারার। বাঙালি প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে বিদেশি গ্রন্থ-ইতিহাসে। অন্যদেশের নাগরিকরাও বাংলা মুদ্রণকার্যে, বিশেষ করে হরফ নির্মাণে, অংশ নিচ্ছেন আজও। বইপাড়ায় বইকেনাবেচার মতো জমে ওঠে আড্ডা—বিশেষ করে পয়লা বৈশাখের দিনটায়। হালখাতার পাশাপাশি চলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নির্মাণ, ইতিহাসের রোমন্থন। বাংলা বছরের প্রথম দিনের মধুর নৈকট্যে সজীব হয়ে বহমান থাকে সারা বছর। সব বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি কিন্তু বিজ্ঞাপন। প্রিন্টমিডিয়া আর সোশাল মিডিয়ার যে বাড়বাড়ন্ত আমরা আজ দেখি সেকালে ছিল শুধু ছাপাই মাধ্যমের বোলবোলা। বিভিন্ন প্রকাশনা নিজেদের প্রচারের জন্য পুস্তিকা আকারে বইয়ের তালিকা প্রকাশ করত। বইয়ের বিজ্ঞাপনের নমুনা হিসাবে আনুমানিক ১৯৩৯-৪০ খ্রিস্টাব্দের বড়দিনের সময় ‘বসুমতী’ প্রকাশিত মলাটসহ ৪৮ পৃষ্ঠার একটি বিজ্ঞাপন পুস্তিকার হুবহু নকল ইন্দ্রজিৎ চৌধুরীর সংগ্রহ থেকে এই সংখ্যার সঙ্গে বিতরণ করা হল। বড়দিনের সাহিত্য-সওগাত! শিরোনামের প্রচার পুস্তিকায় ‘বসুমতী-সাহিত্য-মন্দির’-এর বইয়ের সুলভ সম্ভারের প্রচার করা হয়েছে। বিশ্বযুদ্ধের বাজারে কাগজ-কালি দুর্মূল্য-দুষ্প্রাপ্য হলেও সুলভে সৎসাহিত্য ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই ছিল বসুমতীর লক্ষ্য। তাই সকলকে ‘কাচমূল্যে কোহিনূররাজি’ সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। বঙ্কিমের সাহিত্যসৃষ্টি থেকে গুপ্তরহস্য, অনুরূপা দেবীর গ্রন্থাবলি থেকে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রমেশচন্দ্র, দ্বিজেন্দ্রলাল থেকে প্রমথ চৌধুরী, হরপ্রসাদ থেকে যদুনাথ, ডিকেন্স থেকে শেক্সপিয়র কে নেই সেই সুলভ সম্ভারে‌—তবে সবই ‘নামমাত্র মূল্যে’—‘ওজনদরে বিক্রয়ের শেষ অভিযান’—‘বিশ্ব-সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম অবদান বিতরণ’—‘বৈষ্ণব-সাহিত্যের কৌস্তভ-রত্নরাজি বিতরণ’। বিশুদ্ধ সাহিত্য, ধর্ম, তন্ত্র, পুরাণ, শাস্ত্র, কাব্য, মহাকাব্য, যোগ-জ্যোতিষ, নাটক, রহস্যগল্প, প্রেমকাহিনি, রাজনীতি, দেশপ্রেম, শিক্ষামূলক বই—সব কিছুরই কেনার সুবর্ণ সুযোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল ওই বিজ্ঞাপন পুস্তিকায়। লক্ষণীয় শব্দচুম্বকের ব্যবহার। রহস্য-লহরী-সিরিজ-এর কথা বলতে গিয়ে ‘রহস্য-বিপ্লবের নায়েগ্রা প্রপাত’ কিংবা আরব্য রজনী-র বিজ্ঞাপনে ‘প্রণয়ের স্বপ্নরাজ্য কখনো দেখিয়াছেন কি?’ এই বাক্যবন্ধের মাধ্যমে ক্রেতাকে চকিতে আকর্ষণ করা হয়েছে যাতে তিনি ‘সাদরে—সাগ্রহে—সত্বরে—সংগ্রহ’ করেন। তবে এত সস্তায় সম্ভার তুলে দেওয়া হচ্ছিল যে কেনাবেচার পরিধির বাইরে বেরিয়ে একে ‘লুণ্ঠন’ বলতেও বিজ্ঞাপন রচয়িতা দ্বিধা করেননি। বইগুলি যেমন উপহার দেওয়া যাবে তেমনি খরিদ করে নামমাত্র মূল্যে ‘গৃহ-লাইব্রেরী সুসজ্জিত’ করা যাবে। সত্যিই ‘এ সুলভের উপেক্ষা আত্মবঞ্চনা!’ তাই সকল পাঠকের পুজোর ছুটির আনন্দ অবসরকে উপভোগ্য করে তুলতে প্রচার পুস্তিকাটি উপহার স্বরূপ এই সংখ্যার সঙ্গে বিতরণ করা হল।



প্রচ্ছদ ও শিল্প-নির্দেশনা: সোমনাথ ঘোষ
সম্পাদক: সৈকত মুখার্জি

বিষয়সূচি

তিনটি অসাধারণ বই
• অশোককুমার দাস
বাইবেলের ভাষান্তর: ইঙ্গ ও বঙ্গে
• অপ্রতিম চক্রবর্তী
কাগজ থেকে পৃষ্ঠা
• পলাশ বরন পাল
পুরানো কলকাতার ছাপাছাপি’র বাজারে ঘোরাঘুরি বা পকেট প্রেস
• কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত
... কালীঘাট থেকে বটতলা প্রান্তিক শিল্পীদের সমাজদর্পণ
• অসিত পাল
বইয়ের সান্নিধ্যে
• দেবাশি‍স বসু
হাজার জিনিস
• অভীককুমার দে
বিশ্বযুদ্ধের দিনগুলিতে বই: এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা
• শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায়
দক্ষিণ-এশীয় লিপিগুলির হরফ-রূপায়ণে অতীত প্রযুক্তির প্রভাব
• ফিয়োনা রস
নোকিয়া পিওর বেঙ্গলি হরফনির্মাণ
• আমেলি বোনে
চিত্রলেখার বই
• সত্যশ্রী উকিল
‘রোমাঞ্চ’ পত্রিকার বাজার-খতিয়ান: বিপণন কৌশল, জনপ্রিয়তা এবং বিক্রিবাটা
• সৌভিক চ্যাটার্জি
দে’জ পাবলিশিং-এ পয়লা বৈশাখের আড্ডা
• শুভঙ্কর দে
কমিক্সে মহাভারত ও তার ভাঙা-গড়া নিয়ে দু-চার কথা
• শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায়


 

গ্রাহক হোন
হরপ্পার গ্রাহক হতে গেলে দুটি সংখ্যার জন্য মোট ন’শো টাকা দিতে হয়। (অতিরিক্ত ডাকমাশুল লাগবে না)
যোগাযোগ করুন ই-মেলে অথবা ফোনে কথা বলুন।

সরাসরি প্রাপ্তিস্থান
• হরপ্পার পরিবেশক পশ্চিমবঙ্গে অক্ষর প্রকাশনী, ১৮এ টেমার লেন, কলকাতা-৯ ও বাংলাদেশে বাতিঘর।
• কলেজস্ট্রিটে পাতিরাম, ধ্যানবিন্দু, দেজ, দে বুকস্টোর, উল্টোডাঙায় সুনীলদার দোকান, রাসবিহারী মোড়ে কল্যাণদার দোকান, রিড বেঙ্গলি বুক স্টোর, শান্তিনিকেতনে রামকৃষ্ণর দোকানের মতো বহু স্টলে হরপ্পা নিয়মিত পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইনে হরপ্পা বিক্রি হয়।
• পত্রিকা পেতে আপনি দপ্তরেও মেল করতে পারেন।

বৈদ্যুতিন পুস্তিকা
করোনার আক্রমণে অন্তরীণ অবস্থায় ১ বৈশাখ ১৪২৭ থেকে ‘হরপ্পা’-র বৈদ্যুতিন পুস্তিকা প্রকাশের সূচনা। এই পুস্তিকা নিজেদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম, যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। দেখবেন চলুন...